মিরপুর টেস্টে শুরু থেকেই ছিল বৃষ্টি, আলোকস্বল্পতা আর বজ্রপাতের বাধা। বারবার খেলা বন্ধ হয়েছে, নষ্ট হয়েছে অনেকটা সময়। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি। চতুর্থ দিনেই শেষ হয়ে গেল টেস্ট। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে গেল স্বাগতিকদের ইনিংস। জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়াল মাত্র ১৭০ রান। সেই লক্ষ্য ৩৫.১ ওভারেই পেরিয়ে গেল ক্যারিবীয়রা, হারাল মাত্র ২ উইকেট।
শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচে দুই ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭২ ও ১৪২ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে করে ২৪৫ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ১৭০ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের চিত্র ছিল হতাশাজনক। আগের দিন ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে শেষ করা দলটি চতুর্থ দিনে আর মাত্র ৬৩ রান যোগ করতে পেরেছে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানেই থেমে যায় ইনিংস।
এই বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন নাঈম হাসান। ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নিয়ে দলের লিড বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে তাঁর সংগ্রহ ৫২ রান।
নাঈমের লড়াই না থাকলে বাংলাদেশের লিড আরও ছোট হতে পারত। কিন্তু তাঁর একার প্রতিরোধ দলের পরাজয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে দাপট দেখিয়েছেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ। ৩৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়া জোমেল ওয়ারিক্যান দ্বিতীয় ইনিংসেও নিয়েছেন ৪ উইকেট। দুই স্পিনারের ঘূর্ণিতেই কার্যত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং।
জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য পেয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতেই ১১২ রান যোগ করেন জন ক্যাম্পবেল ও ব্রেন্ডন কিং। ক্যাম্পবেল ৪৯ রান করে শরীফুল ইসলামের বলে বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি।
এরপর তেজনারায়ণ চন্দরপলকে ২০ রানে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। তবে ততক্ষণে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ করে ফেলেছে সফরকারীরা। ব্রেন্ডন কিং অপরাজিত ৮১ এবং কেবন হজ অপরাজিত ৩১ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতে ৩৫.১ ওভারেই শেষ হয় ম্যাচ।
বাংলাদেশের স্পিনাররা দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো উইকেট নিতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি উইকেটই পেয়েছেন পেসাররা।
চার দিনের টেস্টে বৃষ্টি, আলোকস্বল্পতা ও বজ্রপাতের কারণে মোট নয়বার খেলা বন্ধ হয়েছে। প্রথম তিন দিনে নির্ধারিত ২৭০ ওভারের তুলনায় প্রায় ৬০ ওভার কম খেলা হয়েছে। তবু চতুর্থ দিনেই ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটে।
প্রথম দিন ছাড়া পুরো ম্যাচে বাংলাদেশকে কখনোই শক্ত অবস্থানে দেখা যায়নি। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে আটকে রাখলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতা সব সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। মাত্র ১৬৯ রানের লিড নিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা যে কঠিন হবে, সেটিই প্রমাণিত হয়েছে মাঠে।
এই হারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সমীকরণও বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন হয়ে গেল। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ৫ নভেম্বর, সিলেটে। সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে সেখানে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই বাংলাদেশের সামনে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২৭২ ও ১৪২ (নাঈম ৫২, জাকের ২২; চেজ ৫/৩৬, ওয়ারিক্যান ৪/৬৩)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪৫ ও ১৭০/২ (কিং ৮১*, ক্যাম্পবেল ৪৯; শরীফুল ১ উইকেট, হাসান ১ উইকেট)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জোমেল ওয়ারিক্যান।
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।