
মিরপুর টেস্টে ব্যাট হাতে যখন একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ, তখন দলের হাল ধরলেন আট নম্বরে নামা নাঈম হাসান। বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও অবদান রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি তুলে নিলেন এই ডানহাতি অলরাউন্ডার। তাঁর লড়াকু ইনিংসে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৭০ রান।
চতুর্থ দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে স্বাগতিকরা। আগের দিন ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ। দিনের শেষ দিকে আরও একটি উইকেট হারানোর পর আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ হয়ে যায়। শেষ ভরসা হিসেবে ক্রিজে থাকা জাকের আলির কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল দলের। কিন্তু দিনের শুরুতেই সেই আশা শেষ হয়ে যায়।
জোমেল ওয়ারিকানের বলে রোস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২২ রানেই ফিরে যান জাকের। এরপরও একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের স্কোর এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান নাঈম।
২৯ রানে থাকা অবস্থায় চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। পাওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট অর্ধশতকের দেখা পান নাঈম। শেষ পর্যন্ত ৯১ বল মোকাবিলায় চারটি চারের সাহায্যে ৫২ রান করে থামেন তিনি। রোস্টন চেজের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার। তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসও আর বেশিদূর এগোয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ব্যাটিং।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান সংগ্রহ করেছিল। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। এতে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই সুবিধা বড় পুঁজিতে রূপ দিতে পারেনি দল।
বল হাতেও এ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাঈম। ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দিতে তাঁর শিকার ছিল চার উইকেট। এবার ব্যাট হাতে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি দিক তুলে ধরলেন তিনি। টেস্টে এর আগে নাঈমের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল অপরাজিত ৩৫ রান, আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক রোস্টন চেজ। তিনি পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন। জোমেল ওয়ারিকানের শিকার চার উইকেট। এর মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন চেজ।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে এক ওভার ব্যাট করেছে সফরকারীরা। কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ৮ রান। শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে জন ক্যাম্পবেলের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন জানিয়ে রিভিউ নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বলের ইমপ্যাক্ট লাইন অতিক্রম করায় রিভিউতে সফল হয়নি স্বাগতিকরা।
মিরপুরে এখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে দুই দলের বোলিং ও ব্যাটিংয়ের লড়াই। ১৭০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয় তুলে নিতে ক্যারিবীয়দের যেমন দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে, তেমনি স্বাগতিকদের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে হবে।