রেকর্ড গড়ার মঞ্চ যেন ফখর জামানের জন্যই সাজানো ছিল। একদিকে শ্রীলঙ্কার ছুড়ে দেওয়া ৩২৬ রানের কঠিন লক্ষ্য, অন্যদিকে ফাইনালে শিরোপা জয়ের চাপ। দুই চ্যালেঞ্জই দারুণ দক্ষতায় সামলালেন পাকিস্তানের বাঁহাতি ওপেনার। খেললেন ৯৯ বলে ১২৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। তাতেই ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি সাঈদ আনোয়ারের দীর্ঘদিনের রেকর্ডে ভাগ বসালেন তিনি। একই সঙ্গে পেরিয়ে গেলেন ওয়ানডেতে চার হাজার রানের মাইলফলক।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ফখরের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাস। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ফখর। ৮৪ বলে শতক পূর্ণ করেন তিনি। ৯৯ বলের ইনিংসে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা হাঁকান এই ওপেনার। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি।
তবে এই শতকের মাহাত্ম্য কেবল ম্যাচ জেতানো ইনিংসেই সীমাবদ্ধ নয়। ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে এটি ফখরের দ্বিতীয় শতক। এর আগে ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১১৪ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শতক করে পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে দুটি সেঞ্চুরির মালিক হলেন।
এত দিন এই রেকর্ড এককভাবে ছিল সাঈদ আনোয়ারের দখলে। ১৯৯৩ সালের উইলস ট্রফির ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং ১৯৯৮ সালের সিলভার জুবিলি ইন্ডিপেনডেন্স কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক এই তারকা। এবার সেই কীর্তিতে ভাগ বসালেন ফখর।
সেঞ্চুরির পথে আরও একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ফখর জামান। ওয়ানডেতে চার হাজার রানের ঘর পেরিয়ে গেছেন তিনি। পাকিস্তানের ১৬তম ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন ৩৬ বছর বয়সী এই ওপেনার।
তার আগে পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডেতে চার হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন ইনজামাম-উল-হক, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ইউনিস খান, সাঈদ আনোয়ারসহ দেশটির একাধিক কিংবদন্তি ব্যাটার।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালের ইনিংস শেষে ফখরের ওয়ানডে রান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৯। ৯৬ ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ৪৪.৬৫, স্ট্রাইক রেট ৯৩.৫৭। ১২টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ১৯টি অর্ধশতক।
ফাইনালে আগে ব্যাট করে কামিন্দু মেন্ডিসের ১৩১ ও পাভান রত্নায়েকের ৭৭ রানের সুবাদে ৫০ ওভারে ৩২৫ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। তবে ফখর জামান ও সাদ বেগের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ম্যাচে ফেরায় স্বাগতিকদের।
সাদ বেগ করেন ৭৪ রান। এরপর আরাফাত মিনহাসের ঝোড়ো ৬১ রানের ইনিংস পাকিস্তানের জয়ের পথ সহজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ফখর জামান। আর পুরো সিরিজে পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরা হন পাকিস্তানের আরাফাত মিনহাস।
সাঈদ আনোয়ারের রেকর্ডে ভাগ বসানো, চার হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ এবং দলকে শিরোপা এনে দেওয়া—এক ফাইনালেই তিনটি বড় অর্জন ধরা দিল ফখর জামানের হাতে।