জীবিত মাকে কাগজে ‘মৃত’ দেখিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট তৈরি করে ১৪ মাস বয়সী নিজের কন্যাশিশুকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে হস্তান্তর করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর উপজেলায়।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম আদিবা খাতুন। সে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরিতাবাড়ী এলাকার খালেদা বেগম ও আজাহার আলীর মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর জীবিকার তাগিদে খালেদা বেগম ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। এ সময় মেয়েকে সুন্দরগঞ্জে তাঁর খালার কাছে রেখে যান।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর শিশুটির বাবা আজাহার আলী খালার বাড়ি থেকে বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে আদিবাকে নিয়ে যান। এরপর কয়েক দিন পার হলেও শিশুটিকে ফিরিয়ে না দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। খোঁজখবর নিতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তৈরি করা একটি এফিডেভিটে শিশুটির মা খালেদা বেগমকে মৃত দেখানো হয়েছে। পরে সাদুল্লাপুর উপজেলার পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামের রুহুল আমীনের পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় শিশুকে উদ্ধার ও আইনগত সহায়তা চেয়ে গত ২৭ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন খালেদা বেগম। অভিযোগের ভিত্তিতে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামের রুহুল আমীনের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ শিশুটিকে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সেখান থেকে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জ থানায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় যাঁদের কাছে শিশুটিকে রাখা হয়েছিল, তাঁরা উপস্থিত না থাকায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। শিশুটির বাবা জুয়া ও মাদকে আসক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
এ ঘটনায় শিশুটিকে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
একটি শিশুকে বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে এফিডেভিট তৈরির বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ।