চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জন্মনিবন্ধন সংশোধনের নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দাবি এবং সাধারণ সংশোধনেও বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকেরা। এ ঘটনায় সাতকানিয়া ভূমি কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মুসার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জন্মনিবন্ধন সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধন সংশোধনের আবেদনে অতিরিক্ত ৫০ টাকা এবং জন্মতারিখ বা বয়স পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চাহিদামতো টাকা না দিলে আবেদন আটকে রাখা, কাজে বিলম্ব এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ব্যবহার করেও চাপ প্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের মতো জরুরি কাজে জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
এওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তিলক কান্তি দাশ জানান, তাঁর পরিষদের এক সেবাগ্রহীতার ফাইল জমা দিতে গেলে ৫ হাজার টাকার কমে কাজ হবে না বলে সেটি ফেরত দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদার্শা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রাকিবুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর মুসা তা অস্বীকার করেন। পাশাপাশি অভিযোগকারীর পরিচয় জানতে চান এবং প্রতিবেদককে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেন।
এদিকে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার জন্য তিনি কাউকে কোনো নির্দেশনা দেননি।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, জন্মনিবন্ধনের মতো সংবেদনশীল নাগরিক সেবার অনুমোদন ও অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়ায় একজন কম্পিউটার অপারেটরের ভূমিকা কতটুকু—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোন প্রশাসনিক আদেশ বা কর্তৃত্ববলে অভিযুক্ত ব্যক্তি এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান স্থানীয়রা।
সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, জন্মনিবন্ধন সরকার নির্ধারিত একটি নাগরিক সেবা। এখানে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি বিধিমালা ও জন্মনিবন্ধন আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নাগরিক সেবা পেতে কোনো ব্যক্তিকে যেন অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।