তৃণমূলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের ‘মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’। উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে আয়োজিত এ পরীক্ষায় চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির ১ হাজার ২৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে এক ঘণ্টাব্যাপী এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রগুলো ছিল নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, আফতাবগঞ্জ সরকারি কলেজ এবং ভাদুরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজক কমিটি জানায়, গত ১৫ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরাসরি ও অনলাইনে পরীক্ষার নিবন্ধন কার্যক্রম চলে। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের নবাবগঞ্জ অঞ্চলের উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান, রেজাউল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান। এ ছাড়া ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক সেলিম রেজা, বর্তমান পরিচালক মো. নাজিম ও শিশিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করা, তাদের প্রতিভার স্বীকৃতি দেওয়া এবং বৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনায় উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে অভিভাবক আতিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন প্রশংসনীয়। নিয়মিত এমন প্রতিযোগিতা হলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হবে এবং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে। মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ট্যালেন্টপুল, সাধারণ ও বিশেষ—এই তিনটি গ্রেডে বৃত্তি দেওয়া হবে। বিজয়ীদের এককালীন নগদ অর্থ, সম্মাননা স্মারক ও আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিটি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারী শিক্ষার্থীর জন্য থাকবে বিশেষ পুরস্কার।