ইরানের পারমাণবিক নীতি বদলের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে পারমাণবিক বোমা তৈরির অনুমতি চেয়েছেন আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবাভিয়ান। তাঁর এ আহ্বানে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিতর্ক সামনে এসেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আলজাজিরার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নাবাভিয়ান জানান, পবিত্র নগরী কোমে এক সমাবেশে তিনি সর্বোচ্চ নেতার কাছে পারমাণবিক বোমা তৈরির অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এ প্রস্তাবের সময় উপস্থিত জনতার একাংশ সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেয়। তবে এ বিষয়ে মোজতবা খামেনির কোনো প্রতিক্রিয়া বা অনুমোদনের খবর পাওয়া যায়নি।
নাবাভিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানের একাধিক আইনপ্রণেতা দেশটির দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন। এর আগে আইনপ্রণেতা আহমাদ নাদেরি পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে কথা বলেন। তাঁর মতে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান প্রয়াত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থান থেকে ভিন্ন হতে পারে।
আরেক আইনপ্রণেতা হোসেইন আলী হাজি-দেলিগানি ইরানের পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে প্রকাশ্য বিতর্ক বাড়ছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ২০০৩ সালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, মজুত ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ফতোয়া দিয়েছিলেন। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছিলেন, দেশটি এখনো ওই ফতোয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পারমাণবিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে ভবিষ্যতে কী ঘটবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে উঠেছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। আলজাজিরার ২১ অক্টোবরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানালেও ইরান এটিকে নিজেদের অধিকার বলে মনে করছে।
তবে আইনপ্রণেতাদের এসব আহ্বানকে এখনই ইরানের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত বা পারমাণবিক বোমা তৈরির অনুমোদন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এ বিষয়ে কোনো নতুন ফতোয়া বা নীতিগত ঘোষণা দিয়েছেন—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।