
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার আভাস পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা বিরোধী শিবির—কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না বলে জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন সরকার গঠনে রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোটের হিসাব-নিকাশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। বুথফেরত জরিপের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী শিবিরের কেউই এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারছে না। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও নজর কেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। আরব ভোটারদের মধ্যেও ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বাড়িঘর ভাঙার নীতি এবং আরব অধ্যুষিত এলাকায় সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।
বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, নতুন নেসেটে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৮টি আসন পেতে পারে। তবে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এসব দলের সঙ্গে সরকার গঠনের প্রশ্নে মতভেদ রয়েছে। ফলে আসনসংখ্যা বাড়লেও সরকার গঠনে তাদের সমর্থন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য দলগুলোর মধ্যে আলোচনা, সমঝোতা ও সম্ভাব্য জোটের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট এমন একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন, যাঁর পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। দায়িত্ব পাওয়া প্রার্থীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করে কার্যকর জোট গঠনের চেষ্টা করতে হয়।
তবে নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে আপত্তি সরকার গঠনের সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে। কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে বিকল্প জোট গঠনের আলোচনা কিংবা দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে বুথফেরত জরিপের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ইসরায়েলের নির্বাচনের পর সরকার গঠনের লড়াই শুধু আসনসংখ্যার ওপর নির্ভর করবে না; বরং কোন দল কার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে প্রধান নির্ধারক। তবে জরিপের ফল চূড়ান্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পরই পার্লামেন্টে দলগুলোর প্রকৃত শক্তি ও সরকার গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্ট হবে।
সূত্র: আল জাজিরা