চট্টগ্রামের পটিয়ায় গরু চুরি করে পাহাড়ে নিয়ে জবাই করার পর মাংস বস্তাবন্দী করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে আবদুর রহিম (৪৫) নামে এক সিএনজিচালককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে গরুর মাংস ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীমাই পাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক আবদুর রহিম বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে আবদুর রহিম দুই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ শ্রীমাই এলাকায় যান। সেখানে তাঁদের নামিয়ে দিয়ে তিনি চলে যান। পরে ওই দুই ব্যক্তি এলাকার সৈয়দ ফজল চৌধুরীর বাড়ির আইযুব মিয়ার একটি গরু চুরি করে পাহাড়ে নিয়ে যান। সেখানে গরুটি জবাই করে মাংস বস্তাবন্দী করেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার ভোরে জমিতে যাওয়ার পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেখে স্থানীয় কৃষক রফিকের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চালক আবদুর রহিমকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অপর দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আবদুর রহিম গরু চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের ফল এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে গরুর মালিককে শনাক্ত করা হয়। গরুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৭০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন আইযুব মিয়ার ভাই। তাঁর ভাষ্য, অন্য একজনের কাছ থেকে গরুটি বর্গা নিয়ে লালন-পালন করছিলেন আইযুব মিয়া।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল উদ্দীন জানান, দক্ষিণ শ্রীমাই পাহাড় এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া অপর দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত বা আটক করা গেছে কি না, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।