ময়মনসিংহের নান্দাইলে গভীর রাতে সদ্য ইট বিছানো একটি রাস্তা থেকে প্রায় সব ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের হালিউড়া গ্রামের দক্ষিণ ফোরকানিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় যাতায়াতের রাস্তাটিতে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন রাস্তার দুই পাশে কিছু ইট পড়ে থাকতে দেখলেও বাকি ইটের হদিস পাননি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রতিকার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল-হোসেনপুর পাকা সড়কের রাজাবাড়িয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হালিউড়া গ্রামে অবস্থিত দক্ষিণ ফোরকানিয়া মাদরাসা ও এতিমখানাটি। মূল সড়ক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে যাতায়াতের কাঁচা রাস্তাটি বর্ষাকালে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নির্দেশনায় প্রায় দুই মাস আগে রাস্তাটিতে হেরিংবন্ড পদ্ধতিতে ইট বিছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের তদারকিতে কাজটি সম্পন্ন করা হয়।
তবে কাজ শুরুর সময় স্থানীয় মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে বাহার উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বাড়ির গোয়ালঘরের সামনে দিয়ে রাস্তা যেতে দেওয়া হবে না বলে তাঁরা আপত্তি জানান। এ নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হলে রাস্তার ইট বিছানোর কাজ শেষ হয়।
কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর রাতের আঁধারে রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাস্তাটি সবার চলাচলের জন্য। রাতের আঁধারে এভাবে ইট তুলে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁদের ধারণা, আগে যারা রাস্তার কাজে বাধা দিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। আবার তাঁদের বিপদে ফেলতে অন্য কোনো পক্ষও এমন কাজ করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন কেউ কেউ।
তবে কারা ইট তুলে নিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। তাঁর ভাষ্য, যে বা যাঁরা এ কাজ করেছেন, তাঁরা ঠিক করেননি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ইট বিছানোর কাজের সভাপতি জুম্মন ভূঁইয়া বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তাটিতে ইট বিছানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা শুরুতে কাজে বাধা দিয়েছিলেন, তাঁরাই রাস্তার সব ইট তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ওই কাজের জন্য চাল বরাদ্দ ছিল। পরে চাল বিক্রির অর্থ দিয়ে রাস্তায় ইট বিছানোর কাজ করা হয়েছে। কাজ শুরুর সময় কেউ বাধা দিয়েছিলেন কি না, তা তাঁর জানা নেই। তবে বৃহস্পতিবার স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়ার খবর পেয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর অভিযুক্ত হিসেবে সন্দেহ করা ব্যক্তিরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। তবে তাঁদের অবস্থান কিংবা ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশি তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্মিত একটি রাস্তার ইট রাতারাতি তুলে নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং রাস্তাটির ইট পুনরায় স্থাপনের ব্যবস্থা করা হোক।