ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দমন, যানজট নিরসন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম। তিনি বলেছেন, শুধু মাদকসেবী কিংবা মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার করেই মাদকের বিস্তার রোধ সম্ভব নয়; মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বড় চক্রের হোতাদেরও ধরতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
মাদক পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক সমস্যা শুধু পুলিশের একার নয়, এটি পুরো সমাজের সমস্যা। বর্তমানে সারা দেশেই মাদকের বিস্তার রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতা এক লাখের কম হলেও সারা দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ লাখ।
তিনি বলেন, “আমরা আসলে কতজন মাদকসেবীকে ধরব? মাদকসেবী বা মাদক বহনকারীসহ হাজারখানেক মানুষকে গ্রেপ্তারের চেয়ে মাদক সম্রাট ও মাফিয়া নেতাদের ধরতে পারলে বেশি কাজ হবে। তাদের ধরতে আমরা কাজ করছি।”
জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে উল্লেখ করে এসপি জানান, এ সমস্যা মোকাবিলায় আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের যানজট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার। ঐতিহ্যবাহী এই শহরের প্রধান সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, যানজট নিরসন বড় চ্যালেঞ্জ। মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি জানান, শিগগিরই মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে। নিবন্ধন ছাড়া কেউ যাতে মোটরসাইকেল চালাতে না পারেন, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা জেলার বিভিন্ন সমস্যা, মাদকের বিস্তার রোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশি সেবা সহজ করার বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা। এতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের শনাক্তকরণ, কিশোর গ্যাং দমন ও যানজট নিরসনে ঘোষিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে জননিরাপত্তা ও নাগরিক ভোগান্তি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।