
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ছোট মহেশপুর গ্রামের কয়েকজন তরুণ মিলে জলাশয়ের ওপর বাঁশ দিয়ে একটি টংঘর তৈরি করেন। সেখানে বসে অবসর কাটানো ও বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা করেন তাঁরা। পরে স্থানটির সৌন্দর্য বাড়াতে জলাশয়ে লাল শাপলার চারা রোপণ করেন। পাশাপাশি ফুলের পরিচর্যা ও জলাশয়টির দেখভাল শুরু করেন। তাঁদের নিয়মিত যত্নে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে শাপলার বিস্তৃতি।
উদ্যোক্তা তরুণদের ভাষ্য, সাধারণত নির্দিষ্ট ঋতুতে শাপলা বেশি ফুটলেও তাঁদের উদ্যোগে তৈরি এই জলাশয়ে প্রায় সারা বছরই লাল শাপলার দেখা মেলে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে জলাশয়টি ভরে ওঠে। অন্যদিকে, শুষ্ক মৌসুমে আশপাশের ইরি-বোরো ধানখেতে সেচ দেওয়ার পানি এসে জলাশয়টিকে সজল রাখে। ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ই এখানে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মাজেদুল ইসলাম সাগর বলেন, “ব্যস্ত সড়কের পাশে সাধারণত এমন শাপলার সমাহার সচরাচর চোখে পড়ে না। যাতায়াতের পথে এখানে দাঁড়িয়ে একটু জিরিয়ে নিলে আর শাপলার সৌন্দর্য দেখলে মনটা জুড়িয়ে যায়। গ্রামের তরুণদের এই ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পথচারীদের বিশ্রাম ও অবসর কাটানোর সুযোগ তৈরি করেছে ছোট মহেশপুরের তরুণদের এই উদ্যোগ। ব্যক্তিগত উদ্যোগ, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা স্থানটি এখন স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তাঁদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও নিজ নিজ এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে উৎসাহিত করতে পারে।