
ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিষয়ক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপট্টনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করছে। এর প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানান, স্থলভাগে প্রবেশের পর ঘূর্ণিঝড়টির গতি কমে গেছে। বর্তমানে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে। এ কারণে উপকূল অতিক্রম করতে ঝড়টির দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এর গতিপথ ও গতির পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও আগের ধারণার তুলনায় কম হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ইতিমধ্যে দেশের উপকূলীয় কিছু এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজধানীতে ভারী বৃষ্টির কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। বিকেল অথবা সন্ধ্যার দিকে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
এদিকে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরমের তীব্রতা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগসহ কয়েকটি এলাকায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি ছিল। ওই দিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও আবহাওয়ার অবনতি হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা সমুদ্রসৈকতে উত্তাল ঢেউ ও ঝোড়ো বাতাসের খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ, গতি এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা পরিস্থিতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই উপকূলীয় অঞ্চলসহ সম্ভাব্য বৃষ্টিপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।