চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) ১ লাখ দক্ষ সদস্যকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সদস্যদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা যাচাই এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে বাহিনীটি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ সময় সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, মরক্কো ও কসোভোর কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা আনসার সদস্যদের কারিগরি দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
মহাপরিচালক বলেন, আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬০ লাখ সদস্যকে বিবেচনায় রেখে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিদেশি নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তবে শুধু কর্মী পাঠানোই লক্ষ্য নয়; সংশ্লিষ্ট দেশের বেতন কাঠামো, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যাচাই করেই কাজের ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
তিনি জানান, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা চলছে। কর্মীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে আনসার সদস্যদের বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নির্মাণকাজ, ওয়েল্ডিং, পোশাকশিল্প, গাড়ি চালানো, আতিথেয়তা ও খাদ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিসংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রয়েছে বাহিনীর উদ্যোগে।
সফিপুরের একাডেমি পরিদর্শনকালে বিদেশি প্রতিনিধিরা এসব প্রশিক্ষণ সুবিধা ও কর্মীদের দক্ষতা সরেজমিনে দেখেন। তাঁদের এ পরিদর্শনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আনসার সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং বিদেশি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতারণা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো, দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়োগদাতার নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করা এবং বেতন ও কর্মপরিবেশ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আনসার-ভিডিপির এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর সদস্যদের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানো এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে অবদান রাখার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
তবে চলতি বছরের মধ্যে এক লাখ সদস্যকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি এখন পর্যন্ত ঘোষিত পরিকল্পনা; নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও কতজন সদস্য শেষ পর্যন্ত বিদেশে কর্মসংস্থান পাবেন, তা পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।