মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পূর্ব জোন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ ও বেচাকেনা বন্ধে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, দেশের সমুদ্র, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের আওতাধীন এলাকায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নে নদী ও সমুদ্র উপকূলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করছে কোস্ট গার্ড। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘আজকের সংরক্ষণই আগামী দিনের প্রাচুর্য’—এই প্রত্যয়ে মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ সময় মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনসহ যেকোনো অনিয়মের তথ্য জানাতে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
এ বিষয়ে ব্রিফিং দেন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম রেজওয়ানুল হক (ট্যাজ), বিএন, অধিনায়ক, বিসিজিএস তামজীদ।