ক্যাম্পাসে আর ফেরা হলো না চেসি ত্রিপুরার। সহপাঠীদের সঙ্গে আবারও দেখা হবে, ফিরবেন প্রিয় ক্যাম্পাসে—এমন প্রত্যাশার মধ্যেই থেমে গেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর জীবন। ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টার পরও বাঁচানো গেল না।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৭ মিনিটে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চেসি ত্রিপুরা। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএইচএম খুরশীদ আলম।
চেসির মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
চেসি ত্রিপুরার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘চেসিকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এর বাইরেও কিছু করার সুযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই করতাম।’
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, সবাই যেন সাবধানে চলাফেরা করেন, নিজেদের খেয়াল রাখেন এবং নিরাপদে থাকেন। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাঘমারা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন চেসি ত্রিপুরা। প্রথমে তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। মাথার ডান পাশে গুরুতর আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
চেসি ত্রিপুরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায়।
একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তরুণ এই শিক্ষার্থীর জীবন। তাঁর মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও শিক্ষকসমাজে নেমে এসেছে শোক। ক্যাম্পাসে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর চলে যাওয়া সহপাঠীদের কাছে গভীর বেদনার হয়ে থাকবে।