শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আগামী ৩১ অক্টোবর জার্মানিজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দেশটির বিভিন্ন শহরে একই দিনে এ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি চলছে। তবে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ‘জেন জেড স্টেহট আউফ’ নামের একটি শিক্ষার্থী উদ্যোগের আহ্বানে বার্লিন, হামবুর্গ, কোলন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ জার্মানির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে ২১টি শহরে কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের মতামত যথাযথভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে তরুণদের ওপর ব্যয় সংকোচনের চাপ না চাপিয়ে জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ
বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান ইস্যু জার্মানির সামরিক পরিষেবা ব্যবস্থায় পরিবর্তন। দেশটির সরকার সামরিক বাহিনীতে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন সামরিক পরিষেবা আইন ২০২৬ সালের শুরুতে কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় তরুণদের সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থার বিভিন্ন বাধ্যতামূলক উপাদান, বিশেষ করে সামরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, তরুণদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বরও জার্মানির শতাধিক শহরে সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। আয়োজকদের হিসাবে, সেদিন প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফলে নতুন করে ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভের ডাক দেশটির তরুণদের মধ্যে সামরিক পরিষেবা নিয়ে চলমান অসন্তোষেরই আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উগ্রপন্থিদের নিয়ে পুলিশের সতর্কতা
বিক্ষোভের ঘোষণার পর সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বার্লিন পুলিশ। পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথ জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে জানিয়েছেন, উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশ সতর্ক থাকবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের আশঙ্কা, ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন উৎসবের রাত হওয়ায় কিছু গোষ্ঠী বিক্ষোভের আড়ালে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ কিংবা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ কারণে বার্লিনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে বিক্ষোভের আয়োজকেরা সহিংসতার আশঙ্কা থেকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। উদ্যোগটির সহ-আয়োজক আকরাম সেলো বলেছেন, তারা সব ধরনের সহিংসতা থেকে নিজেদের দূরে রাখছেন এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরতে চান।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নজর প্রশাসনের
জার্মানির বিভিন্ন শহরে কর্মসূচির প্রস্তুতির মধ্যে প্রশাসনের নজর এখন বিক্ষোভের ধরন, অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দিকে। আয়োজকদের লক্ষ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত দাবিগুলো সামনে আনা। অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বজায় রেখেই সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে চায় পুলিশ।
৩১ অক্টোবরের কর্মসূচিতে কতসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে শিক্ষা ব্যয়, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামরিক নিয়োগের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে জার্মানির তরুণদের মধ্যে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এই বিক্ষোভ সেই আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে আসতে পারে।