ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রায় দেড় শ বছরের পুরোনো রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ জারি করেছে দেশটির ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। মসজিদটিকে সরকারি জমিতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করে ছয় দিনের মধ্যে প্রাঙ্গণ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মসজিদটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত এবং পৌরসভার তালিকায় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছাকাছি অবস্থিত রেসকোর্স মসজিদটির ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে সম্প্রতি নোটিশ পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের দাবি, সরকারি জমিতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে।
নয়াদিল্লি পৌর পরিষদের ওয়েবসাইটে মসজিদটিকে ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, মসজিদটির ব্যবস্থাপনা ও ধর্মীয় ব্যবহারের স্বীকৃতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরই মধ্যে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় বস্তি উচ্ছেদসহ বিভিন্ন স্থাপনা সরানোর বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে মসজিদটির বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কিংবা নোটিশের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সংসদ সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। তিনি কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
ওয়েইসির বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে গেজেটভুক্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃত। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসায় স্থাপনাটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি যুক্তি দিয়েছেন।
এদিকে ভারতের মুসলিম সংগঠন জামিয়াত উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল গত সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রেসকোর্স মসজিদ ও এর সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রতিনিধিদলটি তাদের স্মারকলিপিতে মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সরকারি তালিকাভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকলে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দ্রুত পুনর্বহাল এবং মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা।
জামিয়াত উলামায়ে হিন্দের প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রী রিজিজু বিষয়টি সমাধানে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেসকোর্স মসজিদটি ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়ায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একদিকে সরকারি জমিতে নির্মাণের বৈধতা নিয়ে ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের অবস্থান, অন্যদিকে ওয়াক্ফ সম্পত্তি ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে মসজিদটির স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
এখন মসজিদ কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।