
আপের পাঞ্জাব শাখার মিডিয়া ইনচার্জ বলতেজ পান্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে হেনস্তা করা হয়েছে।
পান্নুর দাবি, প্যারিসে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য উৎসবে পাঞ্জাবের পণ্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সফরে গিয়েছিলেন ভগবন্ত মান। কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মতি না পাওয়ায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে তাঁকে ওই সফরে যেতে হয়েছিল বলে দাবি করেন আপের এই নেতা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রটোকল দেওয়ার কথা থাকলেও প্যারিসে নিযুক্ত ভারতের কনসাল জেনারেল মুখ্যমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাননি। দেশে ফেরার পরও লাগেজ পরীক্ষা করার কথা বলে তাঁকে দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। পরে বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে ওঠার সময় তাঁর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার রুপির শুল্ক আরোপ করা হয় বলে অভিযোগ করেন পান্নু।
আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজও এ ঘটনার সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ কেন্দ্রীয় সরকারের ঔদ্ধত্যের বহিঃপ্রকাশ।
তবে আপের অভিযোগের বিপরীতে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি বিমানবন্দরের কাস্টমস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভগবন্ত মান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের লাগেজে ঘোষণা না করা কিছু জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এ কারণে বিধি অনুযায়ী ৫০ হাজার রুপি কাস্টমস শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এদিকে বিরোধী শিরোমণি আকালি দলের (এসএডি) সাধারণ সম্পাদক বিক্রম সিং মজিথিয়াও এ ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সীমার বেশি লাগেজ বা অর্থ বহনের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পদমর্যাদা বিবেচনায় তাঁকে ছাড় দেওয়া হলেও আইন লঙ্ঘনের কারণেই শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে আপ ও বিরোধী দলগুলোর বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান সামনে এসেছে। একদিকে আপের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে; অন্যদিকে কাস্টমসের বক্তব্য, লাগেজে অঘোষিত পণ্য থাকায় বিধি অনুযায়ী শুল্ক নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।