প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে এক মাসব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন তরুণেরা। প্যাকেটের সামনের অংশে বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক লেবেলিং বা ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ প্রচার চালানো হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যভিত্তিক পোস্ট, সংক্ষিপ্ত ভিডিও, কুইজ ও তরুণদের বক্তব্যের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর ও গবেষণাভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর আয়োজিত এক কর্মশালায় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। ‘আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে জনদাবি: বাংলাদেশে নীতিগত উদ্যোগের জন্য তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এফওপিএল বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের নীতিগত প্রেক্ষাপট এবং জনদাবি তৈরিতে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিগুণ ও ক্ষতিকর উপাদান সম্পর্কে ভোক্তাদের সহজবোধ্য তথ্য দেওয়া জরুরি। প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্ট সতর্কতামূলক লেবেল থাকলে খাবার কেনার সময় ভোক্তারা পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্য সহজে বুঝতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এ জন্য কার্যকর, বাধ্যতামূলক ও গবেষণাভিত্তিক এফওপিএল প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (আইন ও নীতি) ও যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) কাজ করছে। প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিতথ্য সহজ ভাষায় প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কতাসহ তুলে ধরার দাবির প্রতি তিনি সমর্থন ও সম্পৃক্ততার কথা জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) জ্যেষ্ঠ নীতি ও অ্যাডভোকেসি পরামর্শক মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কারিগরি উপদেষ্টা আমিনুল ইসলাম সুজন।
মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের নীতিগত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কার্যকর এফওপিএল নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পক্ষে সম্মিলিত জনসমর্থন গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, আমিনুল ইসলাম সুজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের নেতৃত্বে প্রচারাভিযান পরিচালনার কৌশল ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। এফওপিএল সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং তথ্যভিত্তিক প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক মাসব্যাপী প্রচারাভিযানে প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বির প্রভাব সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে এফওপিএল কী, কেন এটি প্রয়োজন এবং খাদ্য নির্বাচনে ভোক্তাদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর ভূমিকা কী—এসব বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হবে।
আয়োজকেরা জানান, এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু জনসচেতনতা বৃদ্ধি নয়; বরং কার্যকর, বাধ্যতামূলক ও প্রমাণভিত্তিক এফওপিএল প্রবিধান দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের পক্ষে জনদাবি জোরদার করা। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তরুণদের অংশগ্রহণে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মশালায় তরুণ অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের মতামত ও সম্ভাব্য প্রচার কার্যক্রম তুলে ধরেন। অধিবেশন পরিচালনা ও স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের এফওপিএল প্রকল্পের সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান। সমাপনী পর্বে অ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইনবিষয়ক কর্মসূচি কর্মকর্তা মারজানা মুনতাহা পরবর্তী পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
আয়োজকদের আশা, তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এফওপিএল নিয়ে আলোচনা বাড়বে। একই সঙ্গে ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্যাকেটজাত খাবারে বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক লেবেলিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে উঠবে।