বলিউডের পর্দায় একসঙ্গে দেখা গেছে দুই তারকাকে, তৈরি হয়েছে দর্শকপ্রিয়তাও। কিন্তু বাস্তব জীবনে কাজল দেবগন ও রানি মুখার্জির সম্পর্ক একসময় ছিল বেশ দূরত্বের। আত্মীয়তার বন্ধন থাকলেও দীর্ঘদিন তাঁদের মধ্যে ছিল না ঘনিষ্ঠতা। ভুল বোঝাবুঝি, যোগাযোগের অভাব আর আলাদা জীবনযাপনের কারণে তৈরি হয়েছিল নীরব ব্যবধান। তবে সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্ব কমেছে, আবারও কাছাকাছি এসেছেন বাঙালি এই দুই তারকা।
কাজল ও রানি মুখার্জি মুখার্জি পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়তার সূত্রে সেকেন্ড কাজিন। কাজলের বাবা শমু মুখার্জি ও রানির বাবা রাম মুখার্জি ছিলেন খুড়তুতো ভাই। সেই সূত্রে ছোটবেলা থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেও ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে সময় লেগেছে।
১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া করণ জোহর পরিচালিত ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমায় কাজল অভিনয় করেন অঞ্জলি চরিত্রে, আর রানি মুখার্জি পর্দায় হাজির হন টিনা হিসেবে। ছবিতে তাঁদের অভিনয় দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়। তবে পর্দার সেই রসায়ন বাস্তব জীবনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে রূপ নেয়নি।
ছবিটির শুটিংয়ের সময় কাজল ছিলেন প্রতিষ্ঠিত তারকা, অন্যদিকে রানি তখন বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করছিলেন। বয়স, ক্যারিয়ারের অবস্থান, আলাদা জীবনযাপন ও যোগাযোগের অভাব মিলিয়ে তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
রানি মুখার্জির ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে বড় কোনো বিরোধ ছিল না। বরং একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ না থাকায় সম্পর্কটি দীর্ঘদিন ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেনি।
সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। পারিবারিক শোক ও প্রিয়জন হারানোর অভিজ্ঞতা দুই তারকার মধ্যে নতুন করে সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। রানি জানিয়েছিলেন, কাজলের বাবা শমু মুখার্জির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। ২০০৮ সালে শমু মুখার্জির মৃত্যু পরিবারে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে রানির বাবার মৃত্যুও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করার সুযোগ এনে দেয়।
জীবনের কঠিন সময়ে পরিবার যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই উপলব্ধি তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে সাহায্য করে। ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত দূরত্বের বাইরে আত্মীয়তার বন্ধনও যে মূল্যবান, তা নতুন করে সামনে আসে।
কাজলের ছোট বোন তানিশা মুখার্জির উদ্যোগেও রানি ও কাজলের যোগাযোগ পুনরায় গড়ে ওঠার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। বিশেষ করে রানির মা হওয়ার সময়, মেয়ে আদিরার জন্মের আগে, তাঁদের সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক হতে শুরু করে বলে জানা যায়।
এরপর পারিবারিক অনুষ্ঠান ও দুর্গাপূজার আয়োজনে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেতে থাকে। মুম্বাইয়ের নর্থ বোম্বে দুর্গাপূজা কমিটির পূজামণ্ডপে কাজল, রানি ও তানিশার উপস্থিতি ভক্তদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণ।
বাঙালি সংস্কৃতি ও দুর্গাপূজার সঙ্গে মুখার্জি পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। পূজার মণ্ডপে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে দেখা গেলে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি আগ্রহ। সময়ের সঙ্গে কাজল ও রানির সম্পর্কেও যে উষ্ণতা ফিরেছে, তাঁদের পারিবারিক উপস্থিতি সেই বার্তাই দেয়।
২০২৫ সালে পরিবারের সদস্য দেব মুখার্জির মৃত্যুর পর পূজার আয়োজনে দুই বোনের আবেগঘন মুহূর্তও আলোচনায় আসে। দীর্ঘদিনের দূরত্ব পেরিয়ে তাঁদের পারিবারিক বন্ধন যে আরও দৃঢ় হয়েছে, তা নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়।
বলিউডে প্রতিযোগিতা, ব্যস্ততা ও তারকাখ্যাতির আড়ালে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। কাজল ও রানি মুখার্জির সম্পর্কের গল্পও তেমনই—আত্মীয়তা থাকলেও একসময় ছিল দূরত্ব, আর সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্ব কমেছে।
তাঁদের সম্পর্কের এই পরিবর্তন মনে করিয়ে দেয়, সব দূরত্বের পেছনে বড় কোনো দ্বন্দ্ব থাকে না। কখনো যোগাযোগের অভাব, কখনো জীবনের ব্যস্ততা সম্পর্ককে দূরে সরিয়ে দেয়। আবার সময়, পারিবারিক বন্ধন ও আন্তরিকতা সেই সম্পর্ককে ফিরিয়ে আনতে পারে।
পর্দায় একসময় একসঙ্গে দর্শকের মন জয় করা কাজল ও রানি বাস্তব জীবনেও পারিবারিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে পৌঁছেছেন। তাঁদের গল্প তাই শুধু বলিউডের দুই তারকার সম্পর্কের কাহিনি নয়, বরং সময়ের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন নতুন করে আবিষ্কারেরও গল্প।