পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘হুরমত’-এ অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পাচ্ছেন অভিনেত্রী দানানীর মোবিন। পর্দার চরিত্রের সঙ্গে দর্শকেরা নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দেখছেন—এতে আনন্দিত হলেও বাস্তবে নারীদের একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে হয় ভেবে আবেগাপ্লুত হয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নিজের অনুভূতির কথা জানান দানানীর। এ সময় এক দর্শকের মন্তব্য তুলে ধরেন তিনি। ওই দর্শক লিখেছিলেন, ‘আমাদের বাবা জানালাগুলো রং করে দিয়েছিলেন, যাতে আমরা বাইরে দেখতে না পারি।’
দর্শকের এমন অভিজ্ঞতা তাঁকে মিশ্র অনুভূতির মুখোমুখি করেছে বলে জানান অভিনেত্রী। একদিকে, ধারাবাহিকের গল্প যে দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলছে, তা তাঁকে আনন্দ দিয়েছে। অন্যদিকে, বাস্তব জীবনেও অনেক নারীকে যে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেই উপলব্ধি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে।
‘হুরমত’ ধারাবাহিকে দানানীর মোবিন অভিনয় করছেন এমন এক তরুণীর চরিত্রে, যার জীবন কঠোর ও রক্ষণশীল বাবার নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ। মেয়ের জীবনের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তই নিজে নিতে চান তিনি। এমনকি ভালো ফলাফল করার পরও হুরমতকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অনুমতি দেন না তাঁর বাবা। তাঁর ধারণা, নারীদের অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যাওয়া উচিত নয়।
পরিবারের নানা বিধিনিষেধের কারণে ধীরে ধীরে অসহায় হয়ে পড়ে হুরমত। একপর্যায়ে নিজের ওপর বিশ্বাসও হারাতে শুরু করে সে। চরিত্রটির মধ্য দিয়ে নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, শিক্ষার অধিকার এবং নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
ধারাবাহিকটির প্রথম দুই পর্বেই নারীর ইচ্ছা ও স্বাধীনতা দমনের ফলে তাঁদের মানসিক ও সামাজিক জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা দর্শকদের নজর কেড়েছে। দানানীরের অভিনীত চরিত্র ঘিরে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও সেই আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
দর্শকদের ভালোবাসা ও সাড়া অভিনেত্রীর জন্য আনন্দের হলেও তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছে—পর্দার গল্পের সঙ্গে বাস্তব জীবনের অনেক নারীর সংগ্রামের মিল রয়েছে।