শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। দেশের ৩২ হাজার ৯৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর ১৫টি ব্যাটালিয়নের ৬ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে চলছে ৫৪৯টি পিকআপ এবং ৪৪৭টি মোটরসাইকেলে টহল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বছর বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ২ হাজার ৪৫৭ জন সদস্য পূজার নিরাপত্তায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এসআরবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নাশকতার কোনো হুমকি নেই। তবে যেকোনো ধরনের নাশকতা, সন্দেহজনক তৎপরতা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডগ স্কোয়াড ও বম্ব ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে টহলের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য শনাক্ত ও যাচাইয়ের কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
মণ্ডপে আগত নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইভটিজিং ও হয়রানি প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা পরিবহন ও বিসর্জনের নির্ধারিত রুটে বিশেষ টহল পরিচালনা করা হবে। বিসর্জন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্থানে এসআরবি সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
এসআরবি ফোর্সেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
এ বছর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। উৎসবের পুরো সময়জুড়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।