প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন, তাঁরা সমাজেরই সম্পদ। তাঁদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবনমানের উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-১৪-তে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও প্রণোদনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেধা ও সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাঁদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমাজ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে এগিয়ে আসতে হবে। এ পরিবর্তন সমাজের সব স্তরে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাঁদের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য র্যাম্পের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেলে তাঁরাও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। তাঁদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে দৃশ্যমান ও টেকসই পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে।
বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিপাদ্যটি যথার্থ। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সম্ভাবনা বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এখনো দৃশ্যমান অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে সামনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। সময় ও সহযোগিতা পেলে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নগর ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বড় ভবন ও বিপণিবিতান নির্মাণের সময় র্যাম্প সংযোজন এবং গণপরিবহনে প্রবেশগম্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণপরিবহনের চালক ও সহকারীদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। সাধারণ নাগরিকদেরও তাঁদের প্রতি সহমর্মী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সমস্যা ও বাস্তবতা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজের বিভিন্ন সংকট নিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে আলোচনা করতে দ্বিধা করেন। এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ১১০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর মধ্যে বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণ করেন। পরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণে দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলাল। বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমদ কবীর।
অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু, তাঁদের অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এবং সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১৪ গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।