গ্যাসের দাম বাড়েনি, তবু সিএনজি ভাড়া আকাশছোঁয়া!

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজধানী

রাজধানীতে গ্যাসের সংকটকে পুঁজি করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়ায় চলছে লাগামহীন নৈরাজ্য—এমন অভিযোগ যাত্রীদের। আগে যে পথে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা

2026-10-15T20:32:31+00:00
2026-10-15T20:32:31+00:00
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানী
গ্যাসের দাম বাড়েনি, তবু সিএনজি ভাড়া আকাশছোঁয়া!
ভোরের ডাক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীতে গ্যাসের সংকটকে পুঁজি করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়ায় চলছে লাগামহীন নৈরাজ্য—এমন অভিযোগ যাত্রীদের। আগে যে পথে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া লাগত, এখন সেই পথেই গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। কোনো কোনো রুটে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। যাত্রীদের অভিযোগ, গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো হলেও চালকেরা বাড়তি ভাড়া কমাচ্ছেন না। বরং গ্যাসের দাম বেড়েছে—এমন অজুহাতে ভাড়া আদায় করছেন ইচ্ছেমতো।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বনশ্রী, রামপুরা, গুলশান, তেজগাঁও, বিমানবন্দর, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন রুটে আগের তুলনায় ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। দর-কষাকষি করেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ভাড়ায় অটোরিকশা পাওয়া যাচ্ছে না।

বনশ্রীর মেরাদিয়া এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া প্রায় প্রতিদিন ব্যবসায়িক কাজে গুলশান-২ এলাকায় যাতায়াত করেন। তাঁর ভাষ্য, আগে এ পথে ২৫০ টাকা ভাড়া লাগত। শুক্রবার সকালে রাস্তা ফাঁকা থাকলে ২০০ টাকাতেও যাওয়া যেত। এখন চালকেরা ৩৫০ টাকা চান, দর-কষাকষির পরও ৩২০ টাকার নিচে যেতে রাজি হন না।

সেলিমের প্রশ্ন, সিএনজির দাম না বাড়লে ভাড়া এত বাড়ল কেন? চালকেরা গ্যাসের সংকট ও দাম বাড়ার কথা বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করেন তিনি।

একই এলাকার মিঠু চৌধুরী জানান, আগে মেরাদিয়া থেকে তেজগাঁও যেতে ২৫০ টাকা ভাড়া লাগত। এখন চালকেরা ৩০০ টাকা চান। ফেরার পথে ইউলুপ ঘুরে আসার কথা বলে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দাবি করেন।

রামপুরার বাসিন্দা জুয়েলের অভিজ্ঞতাও একই। আগে রামপুরা থেকে বিমানবন্দরে যেতে ৩০০ টাকা লাগলেও এখন চালকেরা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা চাইছেন। তাঁর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই এভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কেন বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে চালকেরা গ্যাসের দাম ও সরবরাহের সমস্যার কথা বলছেন।

শুধু কয়েকটি রুট নয়, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর, উত্তরা, খিলক্ষেত, বসুন্ধরা ও বাড্ডাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিএনজির ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, গ্যাসের সংকটের সময় চালকেরা বাড়তি ভাড়া নেওয়া শুরু করেন। তখন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হওয়ায় অনেক যাত্রী পরিস্থিতি বিবেচনায় বেশি ভাড়া দিয়েছেন। কিন্তু সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পরও ভাড়া আর কমেনি।

বসুন্ধরা সিটি থেকে খিলগাঁওয়ের তালতলায় নিয়মিত যাতায়াত করেন আশরাফুল ইসলাম। আগে তাঁর ভাড়া পড়ত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এখন চালকেরা ৫০০ টাকা পর্যন্ত চান। প্রায় ২০ দিন আগে থেকেই ৪৫০ টাকার নিচে যাতায়াত করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

আশরাফুল বলেন, ভাড়ার নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি বন্ধে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণ ও আদায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে চালকেরা গ্যাসের সরবরাহ সংকট, দীর্ঘ অপেক্ষা, যানজট ও গাড়ির দৈনিক জমার কথা তুলে ধরছেন।

খিলগাঁও এলাকার সিএনজিচালক আবু বকর বলেন, গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না—এ কারণে তাঁদের বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে। আগে যে পথে ২৫০ টাকায় যেতেন, এখন সেখানে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

আবু বকরের ভাষ্য, একটি অটোরিকশার দৈনিক জমা প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে এবং যানজটে দিনের বড় অংশ চলে গেলে আয় কমে যায়। এ অবস্থায় বাড়তি ভাড়া না নিলে খরচ চালানো কঠিন বলে দাবি তাঁর।

রামপুরার চালক আতাউরও একই যুক্তি দেন। তাঁর দাবি, গ্যাস ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। তাই রুটভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নিতে হচ্ছে। দৈনিক জমা ও যানজটের কারণে বাড়তি ভাড়া ছাড়া চলা কঠিন বলেও জানান তিনি।

তবে চালকদের এসব যুক্তির সঙ্গে যাত্রীদের অভিজ্ঞতার মিল নেই। যাত্রীদের প্রশ্ন, সরবরাহে সমস্যা থাকলেও তা কি ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়ানোর বৈধতা দেয়?

সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল। কোনো কোনো পাম্পে গ্যাসের জন্য চার থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় সংকটের কারণে যাতায়াত ব্যয় বেড়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সেই বাড়তি ভাড়া বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

এদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বড় যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ অটোগ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ১২ টাকা।

কিন্তু অটোগ্যাস ও সিএনজি এক জ্বালানি নয়। অটোগ্যাসের দাম বাড়ার বিষয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ নয়। ফলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সিএনজির ভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গ্যাসের সরবরাহ ও চাপের সমস্যা বাস্তব হলেও ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং যাত্রীদের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠছে। যাত্রীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে রাজধানীর সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।


Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: