
শ্রমিকদের এই কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই বিএনএস সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সড়কে অবস্থান নেওয়ায় ওই এলাকায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর আগে বুধবারও একই দাবিতে উত্তরার রাজলক্ষ্মী ও আজমপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছিলেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পরে তাঁদের অবস্থান বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের অনেকে যানবাহন ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে তাঁদের আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, খাবার ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন কারখানায় বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগও রয়েছে।
শ্রমিকনেতা আবদুল বারেক বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন জীবন-জীবিকার ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে। তাঁর ভাষ্য, মূল্যস্ফীতির চাপে অল্প আয়ের শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হলেও বর্তমান বাস্তবতায় ওই অর্থেও সংসার চালানো কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলছেন, শুধু মজুরি বাড়ালেই হবে না, বকেয়া বেতনও দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য না থাকায় শ্রমিকদের বড় অংশ আর্থিক চাপে রয়েছেন।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের দাবি নিয়ে কার্যকর সমাধান না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
টানা দুই দিন উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পাঞ্চলের যান চলাচল ও জনজীবনে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।