ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর মদিনায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার যে দাবি সৌদি জোট করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
সংগঠনটির সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের অভ্যন্তরে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হয়নি।
এর আগে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দাবি করেন যে, মদিনা অভিমুখে ধেয়ে আসা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অতীতেও পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় হুথিদের হামলার একাধিক অভিযোগ এনেছিল রিয়াদ, যার প্রতিটিই প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি।
যুদ্ধের ময়দান ও হুথিদের কৌশলগত অবস্থান
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি জোট ও ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সঙ্গে চলমান লড়াইয়ের মাত্র ৩৭ দিনে ইয়েমেনের নতুন প্রায় ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুথিরা।
হুথি নেতাদের মতে, ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর নিয়মিত বিমান হামলার জবাবেই তারা পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছেন। এ কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোকে তারা নিজেদের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করেন।
সৌদি তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলা জোরদার
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিগত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হুথিদের হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন।
এছাড়া মঙ্গলবার রাতে পূর্বাঞ্চলীয় ধাহরান শহরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’র একটি স্থাপনায় হামলার পর আগুনের শিখা কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সৌদির জ্বালানি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ছিল সীমিত পরিসরের। আরামকোর সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এই হামলার পরও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং কর্মীরা বাসা থেকে কাজ পরিচালনা করছেন।