পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে নিহত ২৮, আহত অন্তত ১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন

2026-10-15T14:20:15+00:00
2026-10-15T14:20:15+00:00
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে নিহত ২৮, আহত অন্তত ১৯
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিক্ষার্থী আটকে থাকার আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান চলছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী ও একজন নারী শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পরবর্তী প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকার আল খায়ের স্কুলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করছিল। ছাদ ধসে পড়লে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। আরও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক

পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম জানিয়েছেন, হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফয়জি জানান, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আহতদের বের করে হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তল্লাশি চলছে।

সন্তানদের খোঁজে হাসপাতালে ছুটছেন অভিভাবকেরা

দুর্ঘটনার পর স্কুলের সামনে ও হাসপাতালে ভিড় করেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। সন্তানদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে ঘটনাস্থলের পরিবেশ।

ডনের প্রতিবেদনে সামিউল্লাহ নামের এক অভিভাবকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত স্কুলে ছুটে যান। সেখানে আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেন তিনি।

সামিউল্লাহ জানান, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন এবং প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছান। তাঁর ছয় সন্তান ওই স্কুলে পড়াশোনা করে।

তিনি বলেন, ভবনের অবস্থা দেখে প্রথমে ভেবেছিলেন, ধসে পড়া অংশের নিচে থাকা শ্রেণিকক্ষে তাঁর ছেলেও চাপা পড়ে মারা গেছে। পরে জানতে পারেন, পানি পান করতে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হওয়ায় ছেলেটি প্রাণে বেঁচে গেছে।

দুর্বল ভবনকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

পেশোয়ারের পুলিশপ্রধান মিয়ান সাঈদ জানিয়েছেন, স্কুলটির ভবনকাঠামো দুর্বল ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ওপরের তলার ছাদ ধসে নিচের তলাগুলোর ওপর পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উদ্ধারসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে ঠিক কী কারণে ভবনটি ধসে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শোক প্রকাশ, ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। তিনি নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি শিশুদের দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভবন ধসের কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন নির্মাণে নিরাপত্তার মানদণ্ড অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানে ভবন ধসের ঘটনা নতুন নয়

পাকিস্তানে দুর্বল ভবনকাঠামো, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে বিভিন্ন সময়ে ভবন ও ছাদ ধসের ঘটনা ঘটেছে।

গত জুলাইয়ে লাহোরে নির্মাণাধীন একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে চার শিশু নিহত হয়েছিল। একই মাসে উমরকোটের কাছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের দেয়ালের অংশ ধসে তিন মেয়েশিশুর মৃত্যু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে জুনে লাহোরের কাহনা এলাকায় একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে শিশুদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা তদারকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পেশোয়ারের স্কুলটিতে সর্বশেষ দুর্ঘটনার পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে।

তথ্যসূত্র: ডন, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: