জাতীয়তার ভিত্তিতে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের বিমানকর্মীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। দেশটির আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব দেশের নাগরিক বিমানকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই বিধিনিষেধ মেনে চলবে তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও নাইজারসহ মোট ৩১টি দেশ। এসব দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ওই ফ্লাইটে থাকা ওমানি এক সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় বিমানের ভারতীয় পাইলট আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনার পর ১ অক্টোবর ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় নতুন বিধিনিষেধ জারি করে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, অন্যান্য বিমান সংস্থার মতো তারাও যেসব দেশের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেসব দেশের নির্ধারিত প্রবেশবিধি মেনে চলতে বাধ্য। যাত্রী ও কর্মীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তেল আবিবগামী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে বিমানকর্মীদের ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফরাসি বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতিটি কার্যকর করতে গিয়ে এয়ার ফ্রান্স কর্মসংস্থান আইনে বৈষম্যের অভিযোগে মামলার মুখে পড়তে পারে।