
এর আগে বুধবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোয় হামলার খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছিল। তবে সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্থায়ী হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে নতুন করে দরপতন দেখা যায়।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে হামলার শিকার হয়ে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ ও একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে একের পর এক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে তেলের বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায়। ইরানের দাবি, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবেই হামলা জোরদার করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে তেলের দামে।
তবে জাহাজে তেল পরিবহনের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ বাজারে দাম কমার চাপ তৈরি করেছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা দাম কমার পক্ষে কাজ করছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের গতিপথ নির্ভর করবে সরবরাহ পরিস্থিতি, নিরাপত্তাঝুঁকি ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।