চকবাজারে ভয়াবহ আগুন, কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার শঙ্কা

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজধানী

পুরান ঢাকার চকবাজারের চক মোগলটুলী সড়কের মুনসুর খাঁন প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের

2026-10-13T14:35:56+00:00
2026-10-13T14:35:56+00:00
  বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬,
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানী
চকবাজারে ভয়াবহ আগুন, কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার শঙ্কা
ভোরের ডাক ডেস্ক
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
পুরান ঢাকার চকবাজারের চক মোগলটুলী সড়কের মুনসুর খাঁন প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে থাকা দোকান ও গোডাউনের মালামালের ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা এখনও জানতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। ভবনের ছয় ও সাততলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কোটি কোটি টাকার পণ্য পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে নিরাপত্তার কারণে ব্যবসায়ীদের এখনও ভবনের ওপরের তলাগুলোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে দোকান ও গোডাউনের সামনে নয়, ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুন লাগা ভবনের সামনে ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাঁদের স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন। কারও চোখেমুখে ক্ষতির আশঙ্কা, কেউ আবার শেষ সম্বলটুকু রক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ওপরের অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।

ভবনটির ছয়তলার একটি গোডাউনের মালিক মো. রবিন জানান, তাঁদের গোডাউনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। আগুন লাগার পর থেকে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় মালামালের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছেন না।

রবিন বলেন, ভবনটির পাঁচ, ছয় ও সাততলায় কসমেটিক পণ্য ও ব্যাগের ৫০টির বেশি গোডাউন রয়েছে। প্রতিটি গোডাউনে প্রায় ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মালামাল আছে। নিচের তলাগুলোতে রয়েছে ব্যাগ ও কসমেটিকসের দোকান।

তিনি বলেন, গোডাউনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। এখন যদি সব পুড়ে যায়, আমি সর্বস্বান্ত হয়ে যাব।

রবিন জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে নিচের একটি দোকানের কর্মচারীর মাধ্যমে আগুন লাগার খবর পান তিনি। এরপর থেকে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। আগুন মূলত ছয় ও সাততলায় ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানান তিনি।

ভবনটির চতুর্থ তলায় কসমেটিকসের দোকান রয়েছে মো. আকাশের। তিনি জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুন লাগার পরপরই কিছু পণ্য বের করতে পারলেও বাকি মালামালের অর্ধেক পুড়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ভবনটির ষষ্ঠ তলায় তাঁর ভাই খোরশেদ আলমের ব্যাগের ব্যবসা রয়েছে বলে জানান আরিফ নামের এক ব্যক্তি।

দ্বিতীয় তলায় ছাতার ব্যবসা করেন জামাল হোসেন। তিনি জানান, তাঁর দোকানের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে নিজের ধারণার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো কর্মচারী ওপরের তলায় বিড়ি-সিগারেট খেয়ে অবশিষ্টাংশ ফেলে দিলে সেখান থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবন বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ভবনে কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে। দোকান বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। এতে অগ্নিকাণ্ডে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি আশপাশের ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মুনসুর খাঁন প্লাজার পাশের একটি ভবনে কসমেটিকসের দোকান রয়েছে মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল থেকে তাঁদের দোকান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় তাঁরা মারাত্মক ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সাইদুর রহমান বলেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দোকান খোলার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁরা আবার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মুনসুর খাঁন প্লাজায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কাটেনি। ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে গোডাউন ও দোকানের মালামাল পরীক্ষা করার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাচ্ছে না। কোটি কোটি টাকার পণ্য রক্ষা পেয়েছে, নাকি আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে—সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সময় কাটছে চকবাজারের ব্যবসায়ীদের।


Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: