ফ্রান্সে সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। নতুন কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন লিগ্যাল এইড ফ্রান্সের পরিচালক আজাদ মিয়া। সদস্যসচিব মনোনীত হয়েছেন প্রবাসী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী আব্দুল মোমিত (রোমেল)।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত অনুমোদিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মনোয়ার হুসেন (মোজাহিদ), মো. তাজ উদ্দিন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও তৌফিকুল ইসলামকে। কমিটির সদস্য হয়েছেন বদরুল বিন আফরুজ, আনসারী মোহাম্মদ আজাদ ও জিল্লুর রহমান। নতুন কমিটিতে সিলেট বিভাগের চার জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
নতুন কমিটির নেতারা ফ্রান্সে বসবাসরত সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নাগরিক সেবা গ্রহণে জটিলতা ও ভোগান্তি কমানো এবং সিলেটের উন্নয়নসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আজাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন। লিগ্যাল এইড ফ্রান্সের পরিচালক হিসেবে তিনি প্রবাসীদের আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সংগঠনটির কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।
কমিটির সদস্যসচিব আব্দুল মোমিত (রোমেল) প্রবাসী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। প্রবাসীদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং এসব সেবা পেতে ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি ও বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সাল থেকে সংগঠনটি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। সংগঠনটির দাবি, সিলেটে নতুন রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গঠন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা এবং সিলেট বিভাগ ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের আন্দোলন ভূমিকা রেখেছে।
এ ছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জে সারকারখানা বহাল রাখা ও নতুন শাহজালাল সারকারখানা স্থাপন, শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চা নিলাম কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন এবং সুরমা নদীর তীর রক্ষার বিষয়গুলোও সংগঠনটির প্রকাশিত অর্জনের তালিকায় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন কমিটির সামনে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাঁদের সমস্যা ও দাবি চিহ্নিত করা এবং সিলেটের উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব রয়েছে।
প্রবাসীদের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কাজের অভিজ্ঞতা এবং সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কমিটি প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সিলেট বিভাগের উন্নয়ন ও প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখাও হবে নতুন কমিটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ।