৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মীও থামাতে পারল না প্রতিবাদ! চাপে মোদি সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীর মোতায়েন এবং ধরপাকড়—কোনও কিছুতেই বিক্ষোভের উত্তাপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা গেল না। নির্বাচন কমিশনের

2026-10-11T18:35:07+00:00
2026-10-11T18:35:07+00:00
  সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
 
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মীও থামাতে পারল না প্রতিবাদ! চাপে মোদি সরকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম 
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন তীব্র
দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীর মোতায়েন এবং ধরপাকড়—কোনও কিছুতেই বিক্ষোভের উত্তাপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা গেল না। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

কেন রাস্তায় নামল আন্দোলনকারীরা?
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। বিরোধীদের অভিযোগ, সংশোধনের নামে বহু ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও দাবি তাদের। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। যদিও নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না মেলাকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশি ব্যারিকেড, যাতায়াতে বিধিনিষেধ এবং আটক করার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। আটক হওয়া মানুষের সংখ্যাও কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

আন্দোলনের নেতাদের আটক, পরে মুক্তি
আন্দোলনের অন্যতম তিন মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর আটক করার ঘটনায় প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়। তাঁদের মুক্তির দাবিতে সরব হন আন্দোলনকারীরা।

রবিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। তবে নেতাদের মুক্তি মিললেও আন্দোলন থেকে সরে আসার বার্তা দেয়নি সিজেপি। সংগঠনের বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে নতুন বিতর্ক
বিক্ষোভ সামলাতে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দেয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার, সাধারণ মানুষের চলাচল এবং জরুরি পরিষেবা সচল রাখার মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পায় আদালতের শুনানিতে।

মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখা এবং যাতায়াতের পথে অপ্রয়োজনীয় বাধা সরানোর বিষয়ে আদালতের নির্দেশ প্রশাসনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দিল্লির মোট ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৪৫টি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে বিষয়টি এখন শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ বজায় রাখার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

দিল্লির বাইরে ছড়াল প্রতিবাদের আঁচ
আন্দোলনের প্রভাব দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে অন্যান্য শহরেও পৌঁছেছে। মুম্বইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে প্রতিবাদের সমর্থনে কর্মসূচি ঘিরে অভিনেতা ইমরান খান-সহ কয়েকজনকে আটক করার খবর সামনে আসে। বেঙ্গালুরুতেও বিক্ষোভ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দিল্লিতে বিরোধী শিবিরের একাধিক পরিচিত নেতাকে আটক করার ঘটনাও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারের মতো নেতাদের আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

বিরোধীদের নিশানায় কেন্দ্র
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলন দমনের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তরুণদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও বিরোধীদের বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনের নেতৃত্বের বক্তব্য, আটক বা প্রশাসনিক বাধা দিয়ে প্রতিবাদের দাবি থামানো সম্ভব নয়। সংগঠক অজিঙ্কা শিন্ডেও বাধা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ধ্রুব রাঠিও আটক হওয়ার পর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

সামনে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন
দিল্লির এই বিক্ষোভ কেন্দ্রের সামনে একসঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রশাসনের জবাবদিহি এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার—সবকটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

বিপুল নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্ত্বেও আন্দোলন অব্যাহত থাকা এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিরোধিতা মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা কতটা সংযত ও অধিকারসম্মত ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ।

আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে একদিকে সংগঠকদের পরবর্তী কর্মসূচি, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার ওপর। তবে এই বিক্ষোভ স্পষ্ট করেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্ককে শুধু নিরাপত্তাব্যবস্থা দিয়ে থামানো সহজ নয়।

নোট: প্রকাশের আগে ঘটনাগুলির তারিখ, আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের নির্ভুলতা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নিন।


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: