মণিপুরে ফের জাতিগত সংঘাত, নাগা-কুকি সহিংসতায় প্রাণ গেল ৯ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটির তিন জেলায়

2026-10-11T16:37:39+00:00
2026-10-11T16:37:39+00:00
  সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
 
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মণিপুরে ফের জাতিগত সংঘাত, নাগা-কুকি সহিংসতায় প্রাণ গেল ৯ জনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম 
প্রতীকী ছবি
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটির তিন জেলায় সংঘর্ষ ও সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সহিংসতার মধ্যে অন্তত ১৪টি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ছয়জন নাগা, দুজন কুকি এবং একজন নেপালি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি। কামজং ও কাংপোকপি জেলায় চারজন করে এবং উখরুল জেলায় একজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

কামজং জেলায় শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চাসাদ থানার কাছে অবৈধ বাংকার উচ্ছেদে পুলিশ, ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ অভিযান চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একদল নারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সময় অজ্ঞাত হামলাকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় ডমখোনেই তৌথাং নামের ৪২ বছর বয়সী এক কুকি নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তিনি পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন।

কুকি নারী সংগঠন কুকি উইমেন ইউনিয়নের দাবি, এ ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী মাইকেল এনগামমিনলেন হাওকিপ নামের এক কুকি যুবকও নিহত হয়েছেন। একজন কর্মকর্তা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এরপর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। দুই সম্প্রদায়ের সদস্যদের অন্তত ১৪টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। শনিবার সকালে সংঘর্ষস্থল থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের নিংচৌ চিংডং গ্রামে দুই নাগা গ্রামরক্ষী নিহত হন। তাঁরা হলেন এনগাচানসো নিংশেন (৩০) ও লেইশিশান হুংয়ো (৫০)।

পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলায় জড়িত থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রতিবেশী কাংপোকপি জেলার মাকুই গ্রামে শনিবার ভোরে হামলায় তিন নাগা গ্রামরক্ষী নিহত হন। তাঁদের নাম মাচুংগামামং, আজিনপৌ রিংকাংমাই ও রোবার্ট।

এর প্রায় এক ঘণ্টা পর তাপোন থেকে মাকুই গ্রামের দিকে যাওয়া নাগা স্বেচ্ছাসেবকদের ওপরও হামলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, গ্রাম আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে সহায়তা করতে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন কুকি সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে থালোন গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী মাচুংওয়াংবৌ নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন।

আহতদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সেনাপতি জেলার সদর দপ্তরে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ওই এলাকায় গোলাগুলি চলছিল বলে কর্মকর্তারা জানান।

সহিংসতার জেরে কুকি সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি কাংপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক বন্ধের ডাক দিয়েছে। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

উখরুল জেলায় শনিবার সকালে অজ্ঞাত সশস্ত্র হামলাকারীদের গুলিতে সন্দীপ রাই নামের ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। নেপালি বংশোদ্ভূত সন্দীপ গাড়িতে করে যাওয়ার সময় কনজাং গ্রামে হামলার শিকার হন।

পুলিশ জানিয়েছে, ইম্ফল থেকে উখরুল হয়ে নাগাল্যান্ডের দিকে যাওয়া জাতীয় মহাসড়ক-২০২-এ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলার উদ্দেশ্য ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ।

২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা চলছে। শুরুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই ও আদিবাসী কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ হলেও পরে অন্য সম্প্রদায়গুলোও এতে জড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩২০ জন নিহত এবং ৬৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘাতের ফলে রাজ্যটিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন আরও গভীর হয়েছে।

নাগা সম্প্রদায় শুরুতে এ সংঘাতের অংশ ছিল না। তবে চলতি বছরের ১৩ মে নোনে ও কাংপোকপি জেলায় দুটি অতর্কিত হামলায় তিন গির্জার নেতাসহ চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নাগারাও সহিংসতার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। ওই দিন নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের ৪৮ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। পরে কয়েক দফায় কিছু জিম্মি মুক্তি পেলেও ছয় নাগার বিকৃত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: