শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করলেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়; কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে প্রয়োজন ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা। তরুণদের উদ্দেশে এমন বার্তা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষ, কর্মক্ষম ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় দক্ষতায় প্রস্তুত করা গেলে তারা অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) আয়োজিত ‘২য় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টেসলবিডি ও ইউল্যাব যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মূল উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন ও ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে শুধু ডিগ্রি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ এবং কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখানো ও শেখার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদেরও নিজেদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে পড়াশোনা করেও অনেক শিক্ষার্থীর সাবলীলভাবে কথা বলা, লিখিতভাবে নিজের ভাব প্রকাশ করা এবং পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
ববি হাজ্জাজের মতে, ইংরেজি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, ব্যবসা, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞান অর্জনের জন্যও এ ভাষায় দক্ষতা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত নির্দেশনা ও পেশাগত তথ্যের বড় একটি অংশ ইংরেজিতে প্রকাশিত হওয়ায় ভাষাগত দুর্বলতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও কর্মক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরার পথে বাধা হতে পারে।
তবে ইংরেজির পাশাপাশি নিজস্ব ভাষায় জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিভাষা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা জাতীয় অর্থনীতির বড় সম্পদে পরিণত হবে। এ জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান, স্থিতিশীল আয় এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মমুখী শিক্ষা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের সামনে বাস্তবসম্মত কর্মসংস্থানের বিকল্প তৈরি করা গেলে তারা উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলি ইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক এবং সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। এ ছাড়া টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্য এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্মেলনে অংশ নেন।