চাকরির কারণে স্বামী-স্ত্রীকে দেশের দুই প্রান্তে বদলি করে দেওয়ার প্রবণতাকে ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, স্বামীকে এক জায়গায় রেখে স্ত্রীকে বান্দরবান বা নাইক্ষ্যংছড়ির মতো দূরবর্তী এলাকায় বদলি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তে একটি পরিবারকে নানা ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিভিন্ন বিভাগে স্বামী-স্ত্রী দুজন চাকরি করলে তাদের কর্মস্থল কাছাকাছি রাখার বিষয়ে নিয়ম-কানুন রয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে অনেক সময় সেই বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফলে পারিবারিক জীবনে জটিলতা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ‘স্বামীকে এক জায়গায় আর স্ত্রীকে বান্দরবান বা নাইক্ষ্যংছড়ির মতো দূরবর্তী স্থানে বদলি করে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী যেন সম্ভব হলে কাছাকাছি থাকতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকদের অনেক দাবি পূরণ হয়েছে। এখনো যেসব যৌক্তিক দাবি রয়েছে, সেগুলোও প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি থেকে তারা বঞ্চিত হবেন না। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাবান্ধব, শিক্ষকবান্ধব ও শিক্ষার্থীবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে শিক্ষাকে অতিরিক্ত রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরীক্ষায় না লিখেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া এবং শুধু পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, শিক্ষা কেবল বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ পাঠ্যবইয়ের বিষয় শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষের নৈতিক ভিত্তি ও মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। তাই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হতে পারে না।
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিলেই হবে না; তাদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলি শেখাতে হবে।
শিক্ষাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে গুণগত পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ ছাড়া সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।