এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুটি টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার আগে পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার লাভ-ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সংগঠনটির সভাপতি সৈকত আরিফ ও সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে সরবরাহ সংকটের কারণে কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এলপিজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা না করে এভাবে দাম বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেন তারা।
তাদের দাবি, অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আগের দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাজার ও জ্বালানি খাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুটি টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার প্রসঙ্গে ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনায় বন্দরের বাস্তব সুফল ও ক্ষতির হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
তাদের দাবি, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সরকারি অর্থে নির্মিত এবং এতে রাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে আরও প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনসিটিতে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।
ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা বলেন, ‘বিদেশি অপারেটর মানেই ভালো’—এমন পূর্বনির্ধারিত অবস্থান না নিয়ে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তাদের মতে, পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনায় বন্দরের সক্ষমতা, রাজস্ব, পরিচালন ব্যয় এবং শ্রমিকদের অবস্থার কী পরিবর্তন হয়েছে, সেই তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, একদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ জনগণের ওপর পড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা ও স্বচ্ছতা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে জনগণের মতামত ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।