দেশের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
তিনি বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশে স্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলটির প্রেসিডিয়াম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট জনজীবনে চাপ তৈরি করছে। এসব সংকট মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অপরাধের বিচার করা হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। তাই অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, নির্বাহী চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান টেপা, মোস্তফা আল মাহমুদ, চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী বেগম নাসরিন জাহান রতনা, প্রেসিডিয়াম সদস্য জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, জাহাঙ্গীর আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন, নাজনীন সুলতানা ও ইয়াহইয়া চৌধুরীসহ দলটির অন্যান্য নেতারা।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মানুষ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও স্বস্তিও চায়। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে—সরকারকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। জাতীয় পার্টি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
সভায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির নেতারা।
তারা বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টিকে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনগণের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।