
কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়া বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গতকাল কুষ্টিয়ায় ছিলেন এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করেছেন। এ সময় বিএনপি কিংবা দলটির অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে তার কোনো ধরনের বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পরে রাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লালন শাহের মাজারে যান। তার সঙ্গে এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মীও ছিলেন বলে জানান রাশেদ খাঁন। সেখানে অবস্থানরত কয়েকজনের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে তার দাবি।
রাশেদ খাঁন বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে কুষ্টিয়া বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
তার দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনের জানা ছিল না। এমনকি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লালন শাহের মাজারে যাওয়ার বিষয়টিও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়নি।
রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা প্রশাসনকে অবহিত না করে এভাবে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে পারেন কি না। তার ভাষ্য, মাজারে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশি নিরাপত্তায় কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গাড়ি পরিবর্তন করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ প্রসঙ্গে ঝিনাইদহের সাম্প্রতিক একটি ঘটনার সঙ্গে তুলনা টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দ্রুত থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু কুষ্টিয়ার ঘটনায় পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেও তিনি কেন দ্রুত স্থান ত্যাগ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় এক ধরনের সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।