
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন বাধা তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর ভারতের আরোপ করা অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক, স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহনের জটিলতার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধিদলটি গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনার মধ্য দিয়ে বৈঠক শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিসর বড় হলেও আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্যে বাংলাদেশের ঘাটতি দীর্ঘদিনের। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলার।
বাণিজ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চীনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি উৎস ভারত। দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতের বড় একটি অংশ ভারতের বাজার থেকে কাঁচামাল ও বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করে। শিল্পের কাঁচামালের পাশাপাশি কাপড়, সুতা, তুলাসহ নানা ধরনের পণ্য ভারত থেকে আমদানি করা হয়।
এ কারণে দুই দেশের বাণিজ্যে বিদ্যমান বাধা কমানো এবং পণ্য পরিবহন ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্থলবন্দরকেন্দ্রিক জটিলতা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।
যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের এই বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলো সমাধানে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।