দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আরও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে। আর বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩৫৬ জনে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। হিসাবটি সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল বিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় মারা গেছেন দুজন করে।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজশাহী বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে একজন করে মারা গেছেন।
নতুন ১ হাজার ৯৯৬ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯০ হাজার ৩৫৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৮৪ হাজার ২৯৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ফলে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার ৫৭৬ জন—মোট ভর্তি রোগী থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা বাদ দিলে এই হিসাব পাওয়া যায়।
চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর মাস ছিল বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এর আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে সেপ্টেম্বর মাসে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়, যা চলতি বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ।
অক্টোবরেও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৯০২ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরদিনই মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১০ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৯৯৬ জন।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের হাসপাতালগুলোতেও চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা বাড়ানো এবং প্রয়োজনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কিছু রোগী অন্যত্র সরিয়ে জায়গা খালি করার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।