ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়গুলোতে পদায়নের জন্য প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে সারাদেশের ‘এ ক্যাটাগরি’র ১৩১ সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্য থেকে ১৮ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্যতিক্রমী এ লটারির আয়োজন করা হয়। তবে লটারিতে নির্বাচিত ১৮ জনকে এখনই ঢাকার নির্দিষ্ট কোনো সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে পদায়ন করা হচ্ছে না। তাদের দক্ষতা, কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের প্রয়োজন বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে স্টেশন নির্ধারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এসব ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে কোনো একটি জায়গা থেকে পরিবর্তন শুরু করতে হবে। ঢাকার পোস্টিংকে সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই প্রথম ধাপে ঢাকার পদায়নে লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত রয়েছেন। এর বাইরে প্রায় ১৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। ‘এ ক্যাটাগরি’র সাব-রেজিস্ট্রার রয়েছেন ১৩১ জন। তাদের মধ্য থেকেই লটারির মাধ্যমে ঢাকার জন্য ১৮ জনকে বাছাই করা হয়েছে।
লটারিতে ঢাকার জন্য মনোনীতরা হলেন—মো. গোলাম মোর্তজা (রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ), অমায়িক বাবু (সদর, সাতক্ষীরা), ফরিদা আক্তার (চিতোষী, চাঁদপুর), অজয় কুমার সাহা (সদর, চুয়াডাঙ্গা), অমিত মঙ্গল চাকমা (সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম), মো. রাসেল মল্লিক (সদর, কুষ্টিয়া), গোবিন্দ সাহা (মনোহরদী, নরসিংদী), মো. মাসুম (নাজিরপুর, পিরোজপুর), এস এম আবু মুসা (নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), নাজনিন জাহান (শ্যামনগর, সাতক্ষীরা), মোহাম্মদ হানিফ (দাউদকান্দি, কুমিল্লা), মনীষা রায় (পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও), সিং মং থোয়াই (গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রাম), রাজিব মজুমদার (গোপালপুর, টাঙ্গাইল), আলী আজগর (সদর, মুন্সীগঞ্জ), শর্মিলা আহমেদ শম্পা (ঘিওর, মানিকগঞ্জ), আমিনা বেগম (সদর, যশোর) ও টিনু চাকমা (ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম)।
লটারির মাধ্যমে ১৮ জন নির্বাচিত হলেও তাদের ঢাকার কোন কোন স্টেশনে পদায়ন করা হবে, তা পরে নির্ধারণ করা হবে। কারণ ঢাকার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে কাজের চাপ এক নয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিতদের মধ্যে যারা বেশি দক্ষ এবং বেশি কাজের চাপ সামলাতে সক্ষম, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। দাপ্তরিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।
তিনি বলেন, ঢাকার ভেতরেও আবার লটারির মাধ্যমে স্টেশন নির্ধারণ করা হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অফিসের কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ কারণে দক্ষতা ও কাজের চাপ বিবেচনা করে চূড়ান্ত পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আইন সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) শামীমা আফরোজ, সাব-রেজিস্ট্রার অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রমজান খান, মহাসচিব মাইকেল আবদুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।