বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে জামায়াত নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে। আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর সময় পুলিশ তাকে হেলমেট পরাতে চাইলে তা খুলে ছুড়ে ফেলেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল-বেরুনী মীর শুনানি শেষে তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর পর হেলমেট পরানোর চেষ্টা করা হলে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হয়ে সেটি খুলে ফেলে দেন। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি হেলমেট পরব না। আমাকে অন্যায়ভাবে, অবৈধভাবে হেলমেট পরানো হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগের না, আমি হেলমেট পরব না।’
একপর্যায়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করবেন, তবু হেলমেট পরবেন না। হেলমেট পরানোর পরিবর্তে তাকে হাতকড়া পরানোরও দাবি জানান তিনি।
গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন আখতারুজ্জামানসহ বিপুলসংখ্যক যাত্রী। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লাগেজ পেতে দেরি এবং ট্রলি সংকট দেখা দিলে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ করছিলেন। এতে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ছাড়া জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মামলায় শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।