শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে দুপুরে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে বিমানবন্দর থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাজেদুল ইসলাম এ আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের পাশাপাশি জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। ওই দিনই রাজধানীর বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি দল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরে। বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ট্রলি পাওয়া নিয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়।
লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়ার বিষয় নিয়েও একপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় তাঁকে হুমকিমূলক ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্য নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও আখতারুজ্জামান হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের কেপিআই-ভুক্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অনুরোধ করেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এ সময় তাঁর সঙ্গেও অশালীন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর সঙ্গেও উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যাত্রীদের জমজমের পানি রাখা বোতল বা পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, এসব ঘটনায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় কোনো কুচক্রী মহল জড়িত ছিল কি না বা কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
তবে শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।