ক্যামেরা অন হলেই বদলে যান সুনেরাহ বিনতে কামাল। কখনও সংসারী নারী, কখনও রহস্যময় চরিত্র, আবার কখনও একেবারেই ভিন্ন কোনো সত্তা—অভিনয়ের প্রয়োজনে নানা রূপে হাজির হন পর্দায়। অথচ ক্যামেরার বাইরে তিনি নিজের মতো করে পথ চলা এক অভিনেত্রী, যার জগতে অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন, স্টাইলিং ও সৃজনশীলতারও রয়েছে আলাদা জায়গা।
চলতি বছরে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে দর্শকপ্রিয়তা—সব মিলিয়ে আলোচনায় থাকা সুনেরাহকে ঘিরে তাই কৌতূহলও বাড়ছে। পর্দার চরিত্র আর বাস্তবের সুনেরাহ—দুইয়ের গল্পেই রয়েছে বেশ কিছু ভিন্নতা।
চলতি বছরটা সুনেরাহর ক্যারিয়ারে বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অভিনয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ, নাটকে দর্শকপ্রিয়তা এবং নতুন কাজ—সব মিলিয়ে আলোচনায় রয়েছেন তিনি।
সুনেরাহর এবারের ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়া। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে উৎসবটির প্রতিযোগিতামূলক অরিজোন্তি বিভাগে জায়গা করে নেয়। সিনেমাটিতে বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ।
ভেনিসে গিয়ে শুধু সিনেমার প্রদর্শনীতেই অংশ নেননি তিনি, নিজের পোশাক ও সাজসজ্জার মাধ্যমেও তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের দেশীয় উপাদান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতাকে নিজের অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন এই অভিনেত্রী।
সুনেরাহর ভাষায়, ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্মাতা, অভিনেতা, সমালোচক ও চলচ্চিত্রকর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের সিনেমা নিয়েও অনেকের আগ্রহের কথা জানান এই অভিনেত্রী।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি দেশের ছোটপর্দাতেও চলতি বছর সুনেরাহর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকে ‘সায়রা’ চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। নাটকটিতে ইরফান সাজ্জাদের বিপরীতে ফাহাদের স্ত্রীর চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে।
নাটকটির প্রতিটি পর্বই ইউটিউবে ব্যাপক দর্শক সাড়া পেয়েছে। কয়েকটি পর্ব এক কোটির বেশি ভিউ অতিক্রম করেছে। প্রথম পর্ব পেরিয়েছে তিন কোটির বেশি ভিউয়ের মাইলফলক। দর্শকের এই সাড়া সুনেরাহর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহেরও একটি বড় প্রতিফলন।
চরিত্রের ব্যাপারে বরাবরই নিজের অবস্থান পরিষ্কার রেখেছেন সুনেরাহ। তাঁর মতে, পর্দায় চরিত্রটি কতটা বড় বা ছোট, সেটি মূল বিষয় নয়। বরং সীমিত পরিসরের একটি চরিত্রকেও অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই একজন শিল্পীর বড় দায়িত্ব।
এর আগে ‘ঝরা বকুল’ নাটকে গোলাম ফরিদা ছন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকের প্রশংসা পেয়েছিলেন সুনেরাহ। নতুন আরেকটি নাটকের শুটিংও শেষ করেছেন তিনি। নাটকটির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ময়মনসিংহের বিভিন্ন লোকেশনে এর শুটিং হয়েছে। এবারও গোলাম ফরিদা ছন্দার সঙ্গে মা-মেয়ের চরিত্রে দেখা যাবে সুনেরাহকে।
অভিনয়ের বাইরে ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে সুনেরাহর। মডেলিং দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও পরে স্টাইলিং ও মার্কেটিংয়ের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পোশাক নির্বাচনে নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় ডিজাইনের প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে।
ভেনিসের অভিজ্ঞতা, দেশীয় নাটকে দর্শকপ্রিয়তা আর নতুন চলচ্চিত্র ও নাটকের কাজ—সব মিলিয়ে সুনেরাহর ক্যারিয়ারে যেন নতুন একটি অধ্যায় তৈরি হচ্ছে। পর্দায় কখনও সায়রা, কখনও ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রের চরিত্র—বিভিন্ন রূপে নিজেকে উপস্থাপন করে অভিনয়ের পরিধি আরও বিস্তৃত করছেন তিনি।