মুসলিমদের দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে সরকারি ছুটির তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ২৭ সেপ্টেম্বর ‘এবি ২০১৭’ বিলে স্বাক্ষর করার পর নতুন এই আইন কার্যকর হয়েছে।
‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামে পরিচিত এই বিলটি উত্থাপন করেন সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি। দীর্ঘ আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষে ৩০ আগস্ট বিলটি আইনসভার দুই কক্ষেই পাস হয়। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর গভর্নরের কাছে পাঠানো হলে ২৭ সেপ্টেম্বর এতে স্বাক্ষর করেন নিউজম।
নতুন আইনে ইসলামি চান্দ্রপঞ্জিকার শাওয়াল মাসের প্রথম দিনকে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখকে ঈদুল আজহা হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ইংরেজি ক্যালেন্ডারে প্রতিবছর ঈদের তারিখ পরিবর্তিত হলেও আইনি স্বীকৃতি বহাল থাকবে।
তবে ঈদকে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ এই নয় যে অঙ্গরাজ্যের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আদালত বা স্থানীয় দপ্তর বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে। আইনটিতে ঈদকে বিচারিক ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ঈদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে সেটিকে অনুমোদিত অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া স্থানীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সরকারি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে বন্ধ রাখতে পারবে। তবে স্কুল বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। একই সুযোগ রাখা হয়েছে কমিউনিটি কলেজগুলোর ক্ষেত্রেও।
সরকারি কর্মীদের জন্যও ঈদ পালনের সুযোগ রাখা হয়েছে আইনে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কর্মীরা ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আট ঘণ্টা ছুটির সুবিধা নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অবকাশ, বার্ষিক ছুটি, অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে ছুটি বা ব্যক্তিগত ছুটির বিধান ব্যবহার করা যাবে।
বিলটির প্রধান সহ-উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন অ্যাসেম্বলি সদস্য আশ কালরা ও স্টেফানি নগুয়েন এবং সিনেটর আইশা ওয়াহাব। আইনটি পাস হওয়ার পর মুসলিম শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঈদ পালনে অতিরিক্ত আইনি সুবিধা তৈরি হলো।
তবে নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা এখন ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেও সব প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে না। কোথায় ছুটি থাকবে আর কোথায় প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।