যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতির পথ এখনো খোলা রাখছে ইরান। তবে নতুন করে সামরিক হামলা হলে কঠোর প্রতিরোধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে তেহরান—এমন বার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তিনি বলেছেন, ইরানের প্রতিনিধিদল শান্তির সন্ধানেই নিউইয়র্কে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো পক্ষ নতুন করে হামলা চালালে ইরান তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে ‘প্রলয়ংকরী যুদ্ধের’ জন্যও প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রতিনিধিদল বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না ইরান। আরাঘচির বক্তব্যেও একই সঙ্গে কূটনীতি ও সামরিক প্রতিরোধের প্রস্তুতির কথা উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমানোর পাশাপাশি কয়েকটি পদক্ষেপ নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আরাঘচি অবশ্য জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন আরাঘচি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিয়েছে। তবে দেশটিতে অবস্থানকালে তাদের চলাফেরায় বিধিনিষেধ রয়েছে।
এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ ও অবরোধ কমালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।
অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আবার শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন। ফলে একদিকে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই দিকেই পরিস্থিতি এগোচ্ছে।
এ অবস্থায় আরাঘচির সর্বশেষ বক্তব্যে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে—আলোচনার সুযোগ থাকলেও নতুন হামলা হলে সামরিক প্রতিরোধের প্রস্তুতিও তেহরান ধরে রাখছে।