ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ইয়েমেনের হুতিদের সাথে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের কাছে পাঠানো এক গোপন নথিতে এই পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সাথে ট্রিলিয়ন ডলারের বেসামরিক পারমাণবিক অংশীদারিত্ব বাস্তবায়নে আগ্রহী। ওয়াশিংটনের মতে, এই চুক্তির ফলে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হবে, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার হবে এবং সৌদি আরবকে পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য রাশিয়া বা চীনের ওপর নির্ভরশীল হওয়া থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, ওয়াশিংটন সৌদি আরবের কোনো পারমাণবিক সংঘাত বা অস্ত্র কর্মসূচিকে সমর্থন করে না এবং প্রস্তাবিত চুক্তিতে বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে চুক্তির বেশ কিছু শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা ও পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে:
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা: চুক্তির প্রাথমিক শর্তে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৫ শতাংশের নিচে রাখার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে তা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ সরাসরি 'ওয়েপনস গ্রেড' না হলেও, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সময় ও কারিগরি জটিলতা অনেক কমিয়ে দেয়।
তদারকির অভাব: প্রস্তাবিত চুক্তিতে সৌদি আরবের জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) 'অ্যাডিশনাল প্রোটোকল' মানা বাধ্যতামূলক করা হয়নি, যা তদারকি দলগুলোকে অঘোষিত সন্দেহভাজন স্থাপনাগুলোতে স্বাধীনভাবে পরিদর্শনের অধিকার দেয়।
সিনেটরদের বিরোধিতা: ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের একটি দল পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে এই চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, পারমাণবিক বিস্তার রোধে 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা উচিত।
সৌদি শক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পূর্বের অবস্থান পুনরুল্লেখ করে জানানো হয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ থাকবে। বর্তমানে চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে ৯০ দিনের পর্যালোচনার অধীন রয়েছে। উল্লেখ্য, এই চুক্তির রাজনৈতিক শর্ত হিসেবে ইসরায়েলের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে, যদিও রিয়াদ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অগ্রগতি ছাড়া তা নাকচ করে দিয়েছে।