দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহব্যবস্থা সংকটের সময় ও পরবর্তী সময়ে প্রায় একই থাকার পরও শুধু দাম বাড়ানোর পর কীভাবে সংকট কেটে গেল—বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে এর ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি।
একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা কী হতে পারে, মূল্য বৃদ্ধি বা কমানোর ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং জ্বালানি বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করেছে কমিটি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও মূল্য সমন্বয়ের কারণ, জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য নির্ধারণে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষ করে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বৈঠকে। ওই সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। তেল নিতে গিয়ে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। অনেক চালককে রাতের পর রাত অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ করতে দেখা যায়।
এরপর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরপরই পাম্পগুলোতে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। সংকটের সময় ও পরবর্তী সময়ে সরবরাহব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির পর পরিস্থিতি কেন বদলে গেল—বৈঠকে মূলত সেই প্রশ্নেরই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
কমিটি দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ, বর্তমান চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।
এসব বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা কমিটির কাছে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বিপিসির কর্মকর্তাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।