প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আপাতত তাড়াহুড়োর কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সফর নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের জন্য সুবিধাজনক সময়েই এ সফর অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল আসতে পারে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাঁর মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে তাঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কোনো প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। এ বিষয়ে ভারতের আমন্ত্রণ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য যখন উপযুক্ত সময় হবে, তখনই সফর অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সফর নিয়ে সবকিছুই ইতিবাচক। তবে এ ক্ষেত্রে যথাযথ সময় দিতে হবে। কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সফর নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কিছু বাধ্যবাধকতা থাকার কথা উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, উভয় পক্ষেরই কিছু রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি ইতিবাচক এবং দুই দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময়েই সবকিছু এগোবে।
নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে চলা আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, গুঞ্জনের চেয়ে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়েই তিনি কথা বলতে চান। তাঁর ভাষায়, আজকের বৈঠক অত্যন্ত ভালো হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের তারিখ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিকভাবে সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে সময় ও তারিখ নিয়ে আলোচনা হবে। দুই দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি অবস্থানে পৌঁছানোর পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকার কথাও স্বীকার করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে। পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সফরের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে।
বৈঠকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনও আলোচনায় স্থান পায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতমুখী এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
দায়িত্ব গ্রহণের পর হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এটিই ছিল ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বৈঠককে আন্তরিক ও ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন। তিনি নতুন দায়িত্বের জন্য হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে এই প্রথম তাঁর আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলো।